সুফী:
১. সুফী শব্দটি (পশম) থেকে উদগত হয়েছে। কারণ, সুফীরা সাধারণ জীবন যাপনের জন্যে পশমী কাপড় পরিধান করতেন- । ড. রোনাল্ড এ নিকলসনের মতে পশমী পোষাক পরিচ্ছেদ পরিধানও আত্মার বিশুদ্ধতার জন্য জরুরী এবং সূফীরা তা পরতেন বিধায় তারা সুফী নামে পরিচিতি।
২. মোল্লা জামী বলেন, শব্দটি (পবিত্রতা ও স্বচ্ছতা) থেকে নির্গত হয়েছে। যেহেতু তারা পূতপবিত্র ও স্বচ্ছ জীবনযাপন করতেন –
৩. আবার কেউ কেউ বলেন, সুফী শব্দটি গ্রীক সাফিয়া শব্দ থেকে উদ্ভাবিত। সাফিয়া অর্থ জ্ঞান। সুফীরা আধ্যাত্মিক জ্ঞানের অধিকারী বলে এ নামে খ্যাত।
সুফীবাদের সংজ্ঞা:
মারূফ আল-কারখী বলেন, “সুফীবাদ ঐশী সত্তার উপলব্ধি।”
জুনায়েদ বাগদাদী বলেন, “জীবন, মৃত্যু ও অন্য সমস্ত ব্যাপারে আল্লাহর ওপর নির্ভরতাই সুফীবাদ।”
কারো কারো মতে,“ পরমত্মার সাথে জীবাত্মা মিল সাধন।”
আল কুরাইশী বলেন, “বাহ্য ও অন্তর্জীবনের পরিশুদ্ধিই হল সুফীবাদ।”
জাকারিয়া আনসারী বলেন, “চিরন্তন ও নিখুঁত আনন্দ লাভের জন্য ব্যক্তিসত্ত¡াকে শুদ্ধিকরণ, নৈতিক চরিত্রের উন্নতি বিধান এবং বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীণ জীবনকে সঠিকভাবে গড়ে তোলাই সুফীবাদ।”
সুফীবাদের স্তর পরিক্রমা :
১. শরীয়ত।
২. তরীকত।
৩. মা’রিফত।
৪. হাকিকত।
শরীয়ত:
ইসলামী জীবন ব্যবস্থার যাবতীয় বিধানকে শরীয়ত বলা হয়। সর্বপ্রথম শরীয়তের পূর্ণ অনুসারী হতে হয়। শরীয়তের যাবতীয় বিধানের মধ্য দিয়ে সুফী তার প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রিত করে প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে আত্মার অনুগত করেন। শরীয়তের পূর্ণ অনুসরণ ব্যতীত কেউ সুফী হতে পারবে না।
তরীকতের পরিচয় : সুফীদের পরিভাষায় তরীকত হচ্ছে; শরীয়তের যাবতীয় বিধান অনুশীলনের পর তাকে আধ্যাত্মিক গুরুর শরনাপন্ন হতে হবে। বিনা প্রশ্নে গুরুর আনুগত্য করতে হবে।
মা’রিফতের পরিচয় : সুফীদের পরিভাষায় মা’রিফত হচ্ছে, এমন একস্তর যার মধ্যে বান্দাহ উপনীত হলে সৃষ্টি রহস্য সম্পর্কে অবগতি অর্জন করতে পারে। এ স্তরে পৌঁছতে পারলে তার অন্তর আলোক উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে। তখন তিনি বস্তুর নিকট তত্ত¡ উপলব্ধি করতে শুরু করেন। মানব জীবন ও সৃষ্টি জীবনের গুপ্ত রহস্য তার নিকট স্পষ্ট হয়ে ভেসে ওঠে।
হাকিকতের পরিচয় : আন্তরিকভাবে খোদার প্রেমের স্বাদ ও পরমাত্মার সাথে তার যোগাযোগ হয়। এটা হচ্ছে সুফী সাধনার চুড়ান্ত স্তর। এ স্তরে উন্নীত হলে সুফী ধ্যানের মাধ্যমে নিজস্ব অস্তিত্ব খোদার নিকট বিলীন করে দেন।
সুফীবাদের উৎপত্তি :
উৎপত্তি নিয়ে মতবেদ রয়েছে-
বেদান্ত ও বৌদ্ধ দর্শনের প্রভাব থেকে এর উৎপত্তি।
ঈসায়ী ও নিউপ্লেটনিক প্রভাব থেকে এর উৎপত্তি।
পারসিক প্রভাব হতে তার উৎপত্তি।
কুরআন ও সুন্নাহ থেকে এর উৎপত্তি।
বেদান্ত ও বৌদ্ধ দর্শনের প্রভাব থেকে এর উৎপত্তি : এইচ মোর্টন ও গোন্ড জীহার বলেন, মুসলমানদের সুফীবাদ ভারতীয় বেদান্ত ও বৌদ্ধ দর্শনের শিক্ষা হতে উদ্ভব হয়েছে। এমনকি বৌদ্ধদের “নির্বাণ” থেকেই মুসলমান এর আবিষ্কার করেছে। কিন্তু ভারতে আসার আগেও মুসলমানদের মাঝে সুফীবাদ প্রচলিত ছিল ।
ঈসায়ী বা নিউপ্লেটনিক প্রভাব থেকে এর উৎপত্তি : অধ্যাপক নিকলসন ও ভনক্রেমারের মতে ঈমারী বা খ্রিস্টাব্দে মরমীবাদের প্রভাব থেকে সুফীবাদের উদ্ভব হয়েছে। নবম শতাব্দীতে মুসলমানগণ সিরিয়া, মিসর, ফিলিস্তিন প্রভৃতি অঞ্চলে ইসলাম প্রচার করতে গিয়ে খ্রীষ্টীয়বাদের সংস্পর্শে আসে। তার প্রভাবেই মুসলমানদের মধ্যে সুফীবাদ জন্ম লাভ করে। তবে এটাও গ্রহণযোগ্য মত নয়। কারণ, ইসলামের প্রথম থেকেই সুফীতত্তে¡ও রেশ ছিলো। সত্যিকারর্থে পরবর্তী সময়ে এর দ্বারা কিছুটা প্রভাবিত হয়েছিলো।
পারসিক প্রভাব থেকে এর উৎপত্তি : দার্শনিক ব্রাউন ও তার অনুসারীদের মতে সুফীবাদ পারসকি প্রভাব থেকে উদগত হয়েছে। মুসলমানদের হাতে পারস্য সামাজ্যের পতনের পর পারসিকরা বিশ্ববিরাগ ও ধর্মীয় রহস্যবাদ গ্রহণ করে। এ মতবাদও সঠিক নয়।
কুরআন ও সুন্নাহ থেকে এর উৎপত্তি : ইসলামী সুফীবাদ পবিত্র কুরআন ও হাদীস থেকে উদ্ভব হয়েছে। কুরআন ও হাদীসের প্রত্যক্ষ সমর্থন থাকায় সুফীবাদের প্রকাশ রাসূল সা. সাহাবী, আহলুসসুফফা ও তাবেঈগণের মধ্যে হয়েছিল। অধ্যাপক পি,কে, হিট্টি বলেন, “কুরআনের আধ্যাত্মিক শিক্ষাই মুসলমানদের জাতীয় জীবনের বিভিন্ন অবস্থার প্রেক্ষাপটে সুফীবাদের মধ্যে দিয়েই আত্মপ্রকাশ করেছে।”
সুফীবাদের ক্রমবিকাশ :
১ রাসূলের যুগে সুফীবাদ : রাসূল সা.’র জীবদ্দশায় এর সূত্রপাত ঘটে। তিনি হেরা গুহায় আল্লাহর ধ্যানে মগ্ন থাকতেন। একদল সাহাবী মসজিদে নববীর এক পার্শ্বে উপাসনা ও আল্লাহর ধ্যানে নিমগ্ন থাকতেন ।
২. খোলাফায়ে রাশেদার যুগে : খলীফাগণ বিরাট সাম্রাজ্যের মালিক হয়েও পার্থিব সুখ-শান্তি কামনা করতেন না তাঁরা আল্লাহর চিন্তায় ও ধ্যানে মগ্ন থাকতেন। তাদের অনুসরণ করে একদল সাহাবী ও তাবেঈ মোরাকাবা ও মোশাহাদায় সর্বদা লিপ্ত থাকতেন।
৩. উমাইয়া শাসনামলে সুফীবাদ : উমাইয়া শাসনামলে সুফীবাদের চরম উৎকর্ষ সাধন হয়। এ সময়ে কয়েকজন সুফী আল্লাহর ধ্যান-ধারণাকেই জীবনে চরম ও পরম ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেন। এ সকল ধর্মতাপদেশের মধ্যে ইমাম হাসান আল-বসরী, আবু হাশিম, জাবির ইবনে হাইয়ান, রাবেয়া বসরী, ইব্রাহিম ইবনে আদহাম, মারূফ আল-কারখী অন্যতম।
৪. আব্বাসীয় শাসনামলে সুফীবাদ : আব্বাসীয় শাসনামলে সুফী মতবাদ নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে পরিচালিত হতে থাকে এ যুগকে ইসলামের ইতিহাসে জ্ঞান-বিজ্ঞানের স্বর্ণযুগ বলা হয়। এ যুগে সুফী মতবাদের ওপর বিদেশী প্রভাব বিস্তার করতে থাকে। এক পর্যায়ে সুফীদের মধ্যে দু’টি দলের সৃষ্টি হয়।
ক. ইনকিশাফী দল : এদলে পুরোধা ছিলেন হযরত আবদুল কাদের জিলানী রহ., জুনায়েদ বাগদাদী রহ. প্রমুখ।
খ. ইসতিদলালী দল : এ দলের সুফীদের মধ্যে স্পেনের মহিউদ্দিন ইবনুল আরাবী ও রূমের মাওলানা জালালুদ্দীন রূমী রহ. অন্যতম।
৫. এ স্তরে ইমাম গাজ্জালীর খেদমত অপরিসীম। তিনি সুফীমতবাদের ওপর অনেকগুলো বই রচনা করেন। এসব রচনার মাধ্যমে তিনি সুফীমতবাদকে জনপ্রিয় করে তোলেন।
সুফীবাদের প্রথম উৎপত্তি আরবে পরে এটা ইরানে প্রসারিত হয় এবং ব্যাপক উৎকর্ষ সাধন করে। ওমর খৈয়াম, ফেরদৌসী, সাদী, জামী, প্রমুখ সুফী ইরানেই জন্মগ্রহণ করেন। অতঃপর এই সুফীমতবাদ ভারতবর্ষেও অনুপ্রবেশ করে। বর্তমানে প্রায় সকল দেশে তরীকাতের ইমামগণ সুফীমতবাদ প্রচার করে চলেছে। উপমহাদেশে এর খ্যাতি ও প্রসিদ্ধ আরবদেশগুলোর তুলনায় বেশি।
সুফীবাদের মূলনীতিসমূহ: সুফীবাদ এক প্রকার রহস্যময় হৃদয়ভিত্তিক ও আত্মোপলব্ধিমূলক মতবাদ। একে রুহানী প্রশিক্ষণও বলা হয়। ব্যক্তির আত্মার পরিশুদ্ধি ও পরম সত্তার সন্ধানই এর লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য সুফীগণ কতগুলো মূলনীতি তৈরি করেছেন। নিম্নে সেগুলো তুলে ধরা হলো
সুফীবাদের মূলনীতিসমূহ :
১. তাওবা : অন্যায় ও পাপের ওপর আন্তরিক অনুশোচনা, অন্যায়ের স্বীকৃতি ও ভবিষ্যতে এ কাজ না করার দীপ্ত শপথ। তাওবা হচ্ছে সুফী মতবাদের প্রথম মূলনীতি।
২. তাওয়াক্কুল : সর্বাবস্থায় দয়াময় আল্লাহ তায়ালার ওপর ভরসা করাই তাওয়াক্কুল।
৩. পরিবর্জন: এ প্রসঙ্গে নিজামুদ্দীন আওলীয়া বলেন, “স্বল্প আহার, স্বল্প কথন, স্বল্প মেলামেশা, স্বল্প নিদ্রার মধ্যেই নিহিত আছে মানুষের পূর্ণতা।”
৪. সবর : যে কোন অবস্থায় অস্থির না হয়ে আল্লাহর সিদ্ধান্তকে মাথা পেতে মেনে নেয়াই সবরের একমাত্র দাবী।
৫. আত্মসমর্পণ : গুরুও কাছে নিজ আত্মাকে সোপর্দ করে দিতে হবে।
৬. ইখলাস : নিছক আল্লাহ তা’য়ালার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সব কাজ করতে হবে।
৭. আল্লাহর প্রেম : অন্তরে পার্থিব জগতের কোনকিছুর প্রেম ও মোহ থাকতে পারে না। সর্বক্ষণ আল্লাহকে পাওয়ার চিন্তায় মগ্ন থাকতে হবে।
৮. আল্লাহর যিকর : আধ্যাত্মিক উন্নতি সাধন ও অন্তরকে পরিশুদ্ধি করার জন্য সর্বদা আল্লাহর যিকর । এ প্রসঙ্গে
৯: শুকুর : আল্লাহর অফুরন্ত নেয়ামতের স্বীকৃতি প্রদান ও আনুগত্যকরণ শুকর বলা হয়।
১০. কাশফ : সুফীগণ যখন আধ্যাত্মিক সাধনার চরম পর্যায়ে উপনীত হন তখন তার অন্তদৃষ্টি খুলে যায় এবং তার সামনে গোপনীয় সকল রহস্যদ্বার খুলে যায়। এক পর্যায়ে তিনি আল্লাহর অসীমতার মাঝে নিজেকে হারিয়ে ফেলেন।
১১. ফানা ও বাকা : ফানা ফিল্লাহ এবং বাকাবিল্লাহ হচ্ছে সুফী সাধনার সর্বোচ্চ স্তর। এ স্তরে পৌঁছলে সুফী নিজের ব্যক্তিগত চেতনাকে মুছে দিয়ে ঐশী চেতনায় উন্নীত হন। ব্যক্তিগত চৈতন্য খোদার ধ্যান ও প্রেমে সমাহিত হয়। তাই আত্মচেতনার অবলুপ্তিকেই বলা হয় ফানা।
ফানার শেষ পর্যায়ে শুরু হয় বাকার প্রাথমিক পর্যায়। এ স্তরে সুফী সাধক আল্লাহর চিরন্তন সত্তার অবস্থান করেন।
সুফীবাদের বিভিন্ন তরীকাসমূহের বিবরণ:
খৃষ্টীয় দশম শতাব্দীতে আধ্যাত্মিক সাধনার পদ্ধতি নিয়ে সুফীদের মাঝে মতানৈক্য দেখা দেয়। যার কারণে তারা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে পড়ে। তবে প্রত্যেক দলই হযরত মুহাম্মদ সা. কে প্রথম ও শ্রেষ্ঠ বলে অভিহিত করে এবং আধ্যাত্মিক জ্ঞানের উৎস বলে স্বীকার করে। নিম্নে সুফীবাদের তরীকাসমূহ আলোচনা করা হলো
সুফীবাদের তরীকাসমূহ :
১. কাদেরীয়া তরীকা।
২. নকশবন্দীয়া তরীকা।
৩. চিশতিয়া তরীকা।
৪. মুজাদ্দেদীয়া তরীকা।
৫. সোহরাওয়ার্দী তরীকা।
৬. মৌলবীয়া তরীকা।
৭. সান্তারীয়া তরীকা।
৮.মাইজভান্ডার তরীকা.
Wednesday, June 8, 2016
সূফিবাদ তথ্য ?
Saturday, May 21, 2016
শবে বরাত সম্পর্কীয়
শবে বরাত সম্পর্কীয় বহু বর্ণনা হাদীসের কিতাবে বিদ্যমান। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হাদীস নিম্নে
পেশ করছি-
*প্রথম হাদীস
হযরত মুয়ায ইবনে জাবাল রা. রাসূল স. থেকে বর্ণনা করেন,
আল্লাহ তায়ালা শাবান মাসের পনের তারিখ রাতে সমস্ত সৃষ্টি কুলের প্রতি রহমতের দৃষ্টি দান করে সকলকে ক্ষমা করে দেন। তবে মুশরিক এবং হিংসুক ছাড়া।
(দেখুন:শুয়াবুল ঈমান-৫/২২৭ , আল-মু‘জামূল কাবীর-২০/১০৮)
░▒▓█►হাদীসটি সম্পর্কে মুহাদ্দিসদের অভিমত
ক. হাফেজ ইবনে রজব হাম্বলী র. মুয়ায রা. এর হাদীসটি বর্ণনা করে বলেন, ইবনে হিবক্ষান হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। আর নির্ভরযোগ্যতার জন্য এটুকুই যথেষ্ট।
*দ্বিতীয় হাদীস
হযরত আয়েশা রা. বলেন, একরাতে আমি রাসূল স.কে বিছানায় পেলাম না। তাই (খোজার উদ্দেশ্যে) বের হলাম।
তখন দেখতে পেলাম,তিনি জান্নাতুল বাকীতে ছেন।আমাকে দেখে তিনি বলে উঠলেন, তুমি কি এ আশঙ্কা করছো যে, আল্লাহ এবং তার রাসূল তোমার প্রতি অবিচার করবেন ? আমি বললাম হে আল্লাহর রাসূল ! আমি ধারণা করছিলাম, আপনি আপনার অন্য স্ত্রীর ঘরে তাশরীফ নিয়েছেন। রাসূল স. বলেন শাবানের পনের তারিখ রাতে আল্লাহ তায়ালা দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন এবং ‘বনু কালব’ গোত্রের ভেড়ার পশমের চেয়েও অধিক সংখ্যক লোককে মাফ করে দেন। (তিরমিযী শরীফ: ১/১৫৬)
░▒▓█►হাদীসটির ব্যাপারে মুহাদ্দিসদের অভিমত ইবনে হিবক্ষান র. আয়েশা রা. এর হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। (শরহুল মাওয়াহিবিল লাদুনিয়্যাহ: ৭/৪৪১
*তৃতীয় হাদীস
হযরত আবী সা’লাবা আল খুশানী রা. থেকে বর্ণিত হুজুর স. ইরশাদ করেন, আল্লাহ তা‘আলা শা’বান মাসের পনের তারিখ রাতে স্বীয় বান্দাদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেন।অতঃপর মুমিনদেরকে ক্ষমা করেন এবং কাফেরদেকে সুযোগ দেন। আর বিদ্বেষ পোষণকারীদেরকে বিদ্বেষ পরিত্যাগ করা পযর্ন্ত অবকাশ দেন। (শুয়াবুল ঈমান: ৩/৩৮১ ,মু‘জামূল কাবীর: ২২/২২৩)
*চতুথ হাদীস:-
আবু মূসা আল আশ’আরী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত,তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ‘আল্লাহ তা‘আলা শাবানের মধ্যরাত্রিতে আগমণ করে, মুশরিক ও ঝগড়ায় লিপ্ত ব্যক্তিদের ব্যতীত, তাঁর সমস্ত সৃষ্টিজগতকে ক্ষমা করে দেন। হাদীসটি ইমাম ইবনে মাজাহ তার সুনানে (১/৪৫৫,হাদীস নং ১৩৯০),এবং তাবরানী তার মু’জামুল কাবীর (২০/১০৭,১০৮) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
░▒▓█► আল্লামা বূছীরি বলেন: ইবনে মাজাহ বর্ণিত হাদীসটির সনদ দুর্বল। তাবরানী বর্ণিত হাদীস সম্পর্কে আল্লামা হাইসামী (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) মাজমা‘ আয যাওয়ায়েদ (৮/৬৫) গ্রন্থে বলেনঃ ত্বাবরানী বর্ণিত হাদীসটির সনদের সমস্ত বর্ণনাকারী শক্তিশালী।হাদীসটি ইবনে হিব্বানও তার সহীহতে বর্ণনা করেছেন। এ ব্যাপারে দেখুন, মাওয়ারেদুজ জাম‘আন, হাদীস নং(১৯৮০),পৃঃ (৪৮৬)।
*৫ম হাদীস:-
আলী ইবনে আবী তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ “যখন শা‘বানের মধ্যরাত্রি আসবে তখন তোমরা সে রাতের কিয়াম তথা রাতভর নামায পড়বে,আর সে দিনের রোযা রাখবে; কেননা সে দিন সুর্যাস্তের সাথে সাথে আল্লাহ তা‘আলা দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন এবং বলেন: ক্ষমা চাওয়ার কেউ কি আছে যাকে আমি ক্ষমা করব। রিযিক চাওয়ার কেউ কি আছে যাকে আমি রিযিক দেব। সমস্যাগ্রস্ত কেউ কি আছে যে আমার কাছে পরিত্রাণ কামনা করবে আর আমি তাকে উদ্ধার করব।এমন এমন কেউ কি আছে? এমন এমন কেউ কি আছে? ফজর পর্যন্ত তিনি এভাবে বলতে থাকেন”।
░▒▓█►সনদ পর্যালোচনা ঃ
হাদীসটি ইমাম ইবনে মাজাহ তার সুনানে (১/৪৪৪,হাদীসনং ১৩৮৮) বর্ণনা করেছেন। আল্লামা বূছীরি (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) তার যাওয়ায়েদে ইবনে মাজাহ (২/১০) গ্রন্থে বলেন, হাদীসটির বর্ণনাকারীদের মধ্যে ইবনে আবি সুবরাহ রয়েছেন।যদি তিনি দুর্বল রাবী হন তাহলে হাদীস টি হাসান।
*৬ষ্ট হাদীস:-
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) হতে বর্ণিত,রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন : ১৫ই শা’বানের রাত্রে আল্লাহ পাক তার
বান্দাদের ক্ষমা করে দেন দুই ব্যক্তি ছাড়া। এক. পরশ্রীকাতর। দুই. অন্যায় ভাবে কাউকে হত্যাকারী।মুসনাদে আহমদ-৬/১৯৭, হাদীস-৬৬৪২, মাজমাউস জাওয়ায়েদ-৮/৬৫, হাদীস-১২৯৬১, আত তারগীব ওয়াত তারহীব লিল মুনজেরী-৩/৩০৮, হাদীস-৪৮৯২। ইত্যাদি অসংখ্য কিতাব..।
░▒▓█►সনদ পর্যালোচনা ঃ
হাদীসটির মান : উক্ত হাদীসটি হাসান তথা প্রমাণযোগ্য।
*৭ম হাদীস:-
-‘‘হযরত আবু হুরায়রা () হতে বর্ণিত, আঁকা () ইরশাদ ফরমান,যখন শাবানের ১৫ই তারিখের রাত আগমন করে তখন
আল্লাহ তা‘য়ালা ঈমানদার বান্দাদেরকে ক্ষমা করে দেন,শুধু মুশরিক (আল্লাহর সাথে শরীককারী) ও হিংসুক ব্যতীত।’
░▒▓█►সনদ পর্যালোচনা ঃ
আল্লামা হাইসামী উক্ত হাদিসটি বর্ণনা করে বলেন-
ﺭَﻭَﺍﻩُ ﺍﻟْﺒَﺰَّﺍﺭُ، ﻭَﻓِﻴﻪِ ﻫِﺸَﺎﻡُ ﺑْﻦُ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﺮَّﺣْﻤَﻦِ ﻭَﻟَﻢْ ﺃَﻋْﺮِﻓْﻪُ، ﻭَﺑَﻘِﻴَّﺔُ ﺭِﺟَﺎﻟِﻪِ ﺛِﻘَﺎﺕٌ .-
-‘‘উক্ত হাদিসটি ইমাম বায্যার () ‘মুসনাদ’ গ্রন্থে বর্ণনা করেন, তার বর্ণনাকারীদের একজন “হিশাম ইব নে আব্দুর
রহমান’’ তার সম্পর্কে আমি পরিচিত বা অবগত নই,বাকী সব রাবী মজবুত ও সিকাহ বা বিশ্বস্ত। অতএব একজনের
জন্য হাদিস যঈফ হবে না; বরং “হাসান”।ইমাম বায্যার :আলমুসনাদ : ১৬/১৬১পৃ. : হাদিস :৯২৬৮ (২) ইবনে হাজার
হায়সামী : মাযমাউয যাওয়াইদ,হাদিস, ৮/৬৫পৃ.হাদিস,১২৯৫৮ (৩) সুয়ূতি, জামিউল আহাদিস, ৩/৪৮৪পৃ.হাদিস,২৬২৩, (৪) খতিবে বাগদাদ, তারীখে বাগদাদ,১৪/২৮৫পৃ. (৫) ইবনে যওজী, আল-ইল্ললুল মুতনাহিয়্যাহ,২/৫৬০পৃ.হাদিস,৯২১ (৬) ইমাম তবারী, শরহে উসূলুল আকায়েদ,৩/৪৯৫পৃ.হাদিস,৭৬৩, হাইসামী, কাশফুল আশতার, ২/৪৩৬পৃ.হাদিস,২০৪৬
*৮নং হাদিস ঃ
-‘‘হযরত আওফ বিন মালেক আশজারী () হতে বর্ণিত,রাসূলে খোদা () ইরশাদ করেন, আল্লাহ তাবারাকা ও তায়ালা ১৫ই
শাবানের রাত্রে (শবে বরাত) সকল ঈমানদার বান্দাদেরকে ক্ষমা করে দেন। তবে মুশরিক এবং হিংসুক ব্যতীত সবাইকে।
’░▒▓█►সনদ পর্যালোচনা ঃ
আল্লামা হাইসামী উক্ত হাদিসটি সংকলন করে বলেন- -‘‘উক্ত হাদিসটি ইমাম বায্যার তার মুসনাদ গ্রন্থে বর্ণনা
করেছেন, উক্ত সনদে “আব্দুর রহমান বিন যিয়াদ বিন আনআম” ইমাম আহমদ বিন সালেহ এর মত তিনি সিকাহ আবার
কিছু মুহাদ্দিসের কাছে তিনি দুর্বল রাবী এবং ইবনে লাহিয়া হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে নরম প্রকৃতির।’ একজন রাবী
দ্বঈফ হওয়াতে হাদিসটির সম্পূর্ণ সনদটি দুর্বল হবে না বরং “হাসান”।
ইমাম বায্যার : আল-মুসনাদ :৭/১৮৬পৃ.হাদিস,২৭৫৪ (২) ইবনে হাজার হায়সামী, মাযমাউয যাওয়াইদ, ৮/৬৫পৃ. (৩)
খতিব তিবরিযী : মিশকাতুল মাসাবীহ : হাদিস : ১৩০৬ :কিয়ামে রামাদ্বান (৪) ইবনে কাসীর, জামিউল মাসানীদ ওয়াল
সুনান, ৬/৬৯১পৃ. হাদিস,৮৫৩৯
🏡 * ৯নংহাদীস:-
-‘‘হযরত কাসীর ইবনে হাদ্বরামী () হতে বর্ণিত, রাসূল()ইরশাদ করেন, আল্লাহ তায়ালা শাবানের ১৫ই তারিখ
রাতে ঈমানদার বান্দাদেরকে ক্ষমা করে দেন, তবে হ্যা দুই ধরনের ব্যক্তি ছাড়া, তারা হল মুশরিক ও হিংসুক।’’
░▒▓█►সনদ পর্যালোচনা ঃ
উক্ত হাদীসের সনদ প্রসঙ্গে আহলে হাদীসের মুহাদ্দিস মোবারকপুরী এবং ইমাম মুনযির বলেন- ﻗﺎﻝ ﻣﻨﺬﺭﻯ : ﺭﻭﺍﻩ
ﺍﻟﺒﻴﻬﻘﻲ ﻭ ﻗﺎﻝ ﻫﺬﺍ ﻣﺮﺳﻞ ﺟﻴﺪ-‘‘ইমাম মুনযির বলেন, উক্ত হাদিসটি ইমাম বায়হাকী বর্ণনা করেছেন। আর বলেছেন, উক্ত হাদিসটি
মুরসাল, তবে সনদ শক্তিশালী।’’ এ হাদিসটির ইমাম আবদুর রাজ্জাকের সূত্রটি খুবই সংক্ষিপ্ত;অনেক শক্তিশালী।
ইবনে আবী শায়বাহ : আল মুসান্নাফ : ৬/১০৮পৃ.হাদিস :২৯৮৫৯ (২) ইমাম আব্দুর রাজ্জাক : আল মুসান্নাফ : ৪/৩১৭ :
হাদিস :৭৯২৩(৩) ইমাম বায়হাকী : শুয়াবুল ঈমান :৫/৩৫৯পৃ.হাদিস :৩৫৫০
🏡 *১০ নং হাদীস:-
-‘‘হযরত আতা ইবনে ইয়াসার () হতে বর্ণিত, রাসূল ()ইরশাদ করেন, শাবানের মধ্য রজনীতে আয়ূ নির্ধারণ করা হয়।
ফলে দেখা যায় কেউ সফরে বের হয়েছে অথচ তার নাম মৃতদের তালিকায় লিপিবদ্ধ করা হয়েছে, আবার কেউ বিয়ে
করছে অথচ তার নাম জীবিতের খাতা থেকে মৃত্যুর খাতায় লিখা হয়ে গেছে।’’
░▒▓█►সনদ পর্যালোচনা ঃ রাবী ‘‘ইবনে লাহিয়াহ’ সম্পর্কে মোটামুটি তিনি সিকাহ বা বিশ্বস্ত ছিলেন।
তাছাড়া মোবারকপুরী বলেন,
ﻗﺎﻝ ﻣﻨﺬﺭﻯ : ﺭﻭﺍﻩ ﺍﺣﻤﺪ ﺑﺎﺳﻨﺎﺩ ﻟﻴﻦ - ﺗﺤﻔﺔ ﺍﻻﺣﻮﺫﻯ : ৪৪১/৩
-‘‘ইমাম মুনযিরী () বলেন, ইমাম আহমদ উক্ত হাদিসটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেন, উক্ত হাদীসের সনদটি ইবনে
লাহিয়ার কারণে লীন বা নরম প্রকৃতির।’’ইমাম বায্যার : আল মুসনাদ :৩ পৃ- ১৫৮, হাদিস : ৭৯২৫(২)সুয়ূতি, জামিউল আহাদিস, ৪১/৬৯পৃ. হাদিস,৪৪৩১৪, (৩)ইবনে রাহবিয়্যাহ, মুসনাদ, ৩/৯৮১পৃ. হাদিস,১৭০২ (৪) তবারী,শরহে
উসূলুল আকায়েদ, ৩/৪৯৯পৃ. হাদিস,৭৬৯
🏡 *১১ নং হাদীস:-
আয়শা (রা:) বলেন, “রাসূলুল্লাহ আমার ঘরে প্রবেশ করলেন এবং তাঁর পোশাকটি খুলে রাখলেন। কিন্তু তত্ক্ষণাত্
আবার তা পরিধান করলেন। এতে আমার মনে কঠিন ক্রোধের উদ্রেক হয়। কারণ আমার মনে হলো যে,তিনি আমার কোন সতীনের নিকট গমন করেছেন। তখন আমি বেরিয়ে তাঁকে অনুসরণ করলাম এবং দেখতে পেলাম যে,তিনি বাক্বী গোরস্থানে মুমিন নরনারী ও শহীদদের পাপ মার্জনার জন্য দোয়া করছেন। আমি (মনে মনে) বললাম,আমার পিতা মাতা আপনার জন্য কুরবানী হউন, আমি আমার জাগতিক প্রয়োজন নিয়ে ব্যস্ত আর আপনি আপনার রবের কাছে ব্যস্ত। অত:পর আমি ফিরে গিয়ে আমার কক্ষে প্রবেশ করলাম, তখন আমি দীর্ঘশ্বাস নিয়ে হাঁপাচ্ছিলাম। এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ (স.) আমার নিকট আগমন করে বললেন, আয়শা, তুমি এভাবে হাঁপাচ্ছ কেন? আয়শা বললেন, আমার পিতা মাতা আপনার জন্য কুরবানী হউন, আপনি আমার কাছে আসলেন এবং কাপড় খুলতে শুরু করে তা আবার পরিধান করলেন। ব্যাপারটি আমাকে খুব আহত করল।
কারণ আমি ধারণা করেছিলাম যে, আপনি আমার কোন সতীনের সংস্পর্শে গিয়েছেন। পরে আপনাকে বাক্বী’তে দোয়া করতে দেখলাম। তিনি বললেন, হে আয়েশা, তুমি কি আশংকা করেছিলে যে, আল্লাহ ও তদীয় রাসুল তোমার উপর অবিচার করবেন? বরং আমার কাছে জিবরাঈল (আ.) আসলেন এবং বললেন, এ রাত্রটি মধ্য শাবানের রাত।আল্লাহ তা’য়ালা এ রাতে ‘কালব’ সম্পদায়ের মেষপালের পশমের চাইতে অধিক সংখ্যককে ক্ষমা করেন। তবে তিনি শিরকে লিপ্ত, বিদ্বেষী, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী, কাপড় ঝুলিয়ে (টাখনু আবৃত করে) পরিধানকারী,পিতা মাতার অবাধ্য সন্তান ও মদ্যপায়ীদের প্রতি দৃষ্টি দেন না।অত:পর তিনি কাপড় খুললেন এবং আমাকে বললেন,হে আয়শা, আমাকে কি এ রাতে ইবাদত করার অনুমতি
দিবে?আমি বললাম, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উত্সর্গিত হোন! অবশ্যই। অত:পর তিনি সালাত আদায় করতে
লাগলেন এবং এমন দীর্ঘ সিজদা করলেন আমার মনে হলো যে, তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। অত:পর আমি (অন্ধকার ঘরে) তাকে খুঁজলাম এবং তাঁর পদদ্বয়ের তালুতে হাত রাখলাম। তখন তিনি নড়াচড়া করলেন। ফলে দুশ্চিন্তা-মুক্ত হলাম।
আমি শুনলাম, তিনি সিজদারত অবস্থায় বলছেন: ‘আমি আপনার কাছে শাস্তির পরিবর্তে ক্ষমা চাই, অসন্তুষ্টির
পরিবর্তে সন্তুষ্টি চাই। আপনার কাছে আপনার (আজাব ও গজব) থেকে আশ্রয় চাই। আপনি সুমহান। আপনার প্রশংসা করে
আমি শেষকরতে পারি না। আপনি তেমনই যেমন আপনি আপনার প্রসংশা করেছেন। আয়শা (রা.) বলেন, সকালে আমি
এ দোয়াটি তাঁর কাছে উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন, হে আয়শা, তুমি কি এগুলো শিখেছ? আমি বললাম, হ্যাঁ।তখন
তিনি বললেন, হে আয়শা তুমি এগুলো ভাল করে শিখ এবং অন্যকে শিক্ষা দাও। জিবরাঈল (আ.) আমাকে এগুলো
শিক্ষা দিয়েছেন এবং সিজদার ভিতরে বারবার বলতে বলেছেন।(বায়হাকীর শুয়াবুল ইমান ২/৩৮৩)।
░▒▓█► হাদীসটির মান :
ইমাম বায়হাকী নিজেই উক্ত হাদীস উল্লেখ করে বলেন-
ﻗُﻠْﺖُ : ﻫَﺬَﺍ ﻣُﺮْﺳَﻞٌ ﺟَﻴِّﺪٌ ﻭَﻳُﺤْﺘَﻤَﻞُ ﺃَﻥْ ﻳَﻜُﻮﻥَ ﺍﻟْﻌَﻠَﺎﺀ ﺑْﻦُ ﺍﻟْﺤَﺎﺭِﺙِ ﺃَﺧَﺬَﻩُ ﻣِﻦْ ﻣَﻜْﺤُﻮﻝٍ ﻭَﺍﻟﻠﻪُ ﺃَﻋْﻠَﻢُ ،
অর্থাৎ : উক্ত হাদীসটি (মুরসাল) সনদ অনেক উত্তম।অতএব হাদীসটি প্রমাণযোগ্য।
পেশ করছি-
*প্রথম হাদীস
হযরত মুয়ায ইবনে জাবাল রা. রাসূল স. থেকে বর্ণনা করেন,
আল্লাহ তায়ালা শাবান মাসের পনের তারিখ রাতে সমস্ত সৃষ্টি কুলের প্রতি রহমতের দৃষ্টি দান করে সকলকে ক্ষমা করে দেন। তবে মুশরিক এবং হিংসুক ছাড়া।
(দেখুন:শুয়াবুল ঈমান-৫/২২৭ , আল-মু‘জামূল কাবীর-২০/১০৮)
░▒▓█►হাদীসটি সম্পর্কে মুহাদ্দিসদের অভিমত
ক. হাফেজ ইবনে রজব হাম্বলী র. মুয়ায রা. এর হাদীসটি বর্ণনা করে বলেন, ইবনে হিবক্ষান হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। আর নির্ভরযোগ্যতার জন্য এটুকুই যথেষ্ট।
*দ্বিতীয় হাদীস
হযরত আয়েশা রা. বলেন, একরাতে আমি রাসূল স.কে বিছানায় পেলাম না। তাই (খোজার উদ্দেশ্যে) বের হলাম।
তখন দেখতে পেলাম,তিনি জান্নাতুল বাকীতে ছেন।আমাকে দেখে তিনি বলে উঠলেন, তুমি কি এ আশঙ্কা করছো যে, আল্লাহ এবং তার রাসূল তোমার প্রতি অবিচার করবেন ? আমি বললাম হে আল্লাহর রাসূল ! আমি ধারণা করছিলাম, আপনি আপনার অন্য স্ত্রীর ঘরে তাশরীফ নিয়েছেন। রাসূল স. বলেন শাবানের পনের তারিখ রাতে আল্লাহ তায়ালা দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন এবং ‘বনু কালব’ গোত্রের ভেড়ার পশমের চেয়েও অধিক সংখ্যক লোককে মাফ করে দেন। (তিরমিযী শরীফ: ১/১৫৬)
░▒▓█►হাদীসটির ব্যাপারে মুহাদ্দিসদের অভিমত ইবনে হিবক্ষান র. আয়েশা রা. এর হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। (শরহুল মাওয়াহিবিল লাদুনিয়্যাহ: ৭/৪৪১
*তৃতীয় হাদীস
হযরত আবী সা’লাবা আল খুশানী রা. থেকে বর্ণিত হুজুর স. ইরশাদ করেন, আল্লাহ তা‘আলা শা’বান মাসের পনের তারিখ রাতে স্বীয় বান্দাদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেন।অতঃপর মুমিনদেরকে ক্ষমা করেন এবং কাফেরদেকে সুযোগ দেন। আর বিদ্বেষ পোষণকারীদেরকে বিদ্বেষ পরিত্যাগ করা পযর্ন্ত অবকাশ দেন। (শুয়াবুল ঈমান: ৩/৩৮১ ,মু‘জামূল কাবীর: ২২/২২৩)
*চতুথ হাদীস:-
আবু মূসা আল আশ’আরী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত,তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ‘আল্লাহ তা‘আলা শাবানের মধ্যরাত্রিতে আগমণ করে, মুশরিক ও ঝগড়ায় লিপ্ত ব্যক্তিদের ব্যতীত, তাঁর সমস্ত সৃষ্টিজগতকে ক্ষমা করে দেন। হাদীসটি ইমাম ইবনে মাজাহ তার সুনানে (১/৪৫৫,হাদীস নং ১৩৯০),এবং তাবরানী তার মু’জামুল কাবীর (২০/১০৭,১০৮) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
░▒▓█► আল্লামা বূছীরি বলেন: ইবনে মাজাহ বর্ণিত হাদীসটির সনদ দুর্বল। তাবরানী বর্ণিত হাদীস সম্পর্কে আল্লামা হাইসামী (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) মাজমা‘ আয যাওয়ায়েদ (৮/৬৫) গ্রন্থে বলেনঃ ত্বাবরানী বর্ণিত হাদীসটির সনদের সমস্ত বর্ণনাকারী শক্তিশালী।হাদীসটি ইবনে হিব্বানও তার সহীহতে বর্ণনা করেছেন। এ ব্যাপারে দেখুন, মাওয়ারেদুজ জাম‘আন, হাদীস নং(১৯৮০),পৃঃ (৪৮৬)।
*৫ম হাদীস:-
আলী ইবনে আবী তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ “যখন শা‘বানের মধ্যরাত্রি আসবে তখন তোমরা সে রাতের কিয়াম তথা রাতভর নামায পড়বে,আর সে দিনের রোযা রাখবে; কেননা সে দিন সুর্যাস্তের সাথে সাথে আল্লাহ তা‘আলা দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন এবং বলেন: ক্ষমা চাওয়ার কেউ কি আছে যাকে আমি ক্ষমা করব। রিযিক চাওয়ার কেউ কি আছে যাকে আমি রিযিক দেব। সমস্যাগ্রস্ত কেউ কি আছে যে আমার কাছে পরিত্রাণ কামনা করবে আর আমি তাকে উদ্ধার করব।এমন এমন কেউ কি আছে? এমন এমন কেউ কি আছে? ফজর পর্যন্ত তিনি এভাবে বলতে থাকেন”।
░▒▓█►সনদ পর্যালোচনা ঃ
হাদীসটি ইমাম ইবনে মাজাহ তার সুনানে (১/৪৪৪,হাদীসনং ১৩৮৮) বর্ণনা করেছেন। আল্লামা বূছীরি (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) তার যাওয়ায়েদে ইবনে মাজাহ (২/১০) গ্রন্থে বলেন, হাদীসটির বর্ণনাকারীদের মধ্যে ইবনে আবি সুবরাহ রয়েছেন।যদি তিনি দুর্বল রাবী হন তাহলে হাদীস টি হাসান।
*৬ষ্ট হাদীস:-
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) হতে বর্ণিত,রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন : ১৫ই শা’বানের রাত্রে আল্লাহ পাক তার
বান্দাদের ক্ষমা করে দেন দুই ব্যক্তি ছাড়া। এক. পরশ্রীকাতর। দুই. অন্যায় ভাবে কাউকে হত্যাকারী।মুসনাদে আহমদ-৬/১৯৭, হাদীস-৬৬৪২, মাজমাউস জাওয়ায়েদ-৮/৬৫, হাদীস-১২৯৬১, আত তারগীব ওয়াত তারহীব লিল মুনজেরী-৩/৩০৮, হাদীস-৪৮৯২। ইত্যাদি অসংখ্য কিতাব..।
░▒▓█►সনদ পর্যালোচনা ঃ
হাদীসটির মান : উক্ত হাদীসটি হাসান তথা প্রমাণযোগ্য।
*৭ম হাদীস:-
-‘‘হযরত আবু হুরায়রা () হতে বর্ণিত, আঁকা () ইরশাদ ফরমান,যখন শাবানের ১৫ই তারিখের রাত আগমন করে তখন
আল্লাহ তা‘য়ালা ঈমানদার বান্দাদেরকে ক্ষমা করে দেন,শুধু মুশরিক (আল্লাহর সাথে শরীককারী) ও হিংসুক ব্যতীত।’
░▒▓█►সনদ পর্যালোচনা ঃ
আল্লামা হাইসামী উক্ত হাদিসটি বর্ণনা করে বলেন-
ﺭَﻭَﺍﻩُ ﺍﻟْﺒَﺰَّﺍﺭُ، ﻭَﻓِﻴﻪِ ﻫِﺸَﺎﻡُ ﺑْﻦُ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﺮَّﺣْﻤَﻦِ ﻭَﻟَﻢْ ﺃَﻋْﺮِﻓْﻪُ، ﻭَﺑَﻘِﻴَّﺔُ ﺭِﺟَﺎﻟِﻪِ ﺛِﻘَﺎﺕٌ .-
-‘‘উক্ত হাদিসটি ইমাম বায্যার () ‘মুসনাদ’ গ্রন্থে বর্ণনা করেন, তার বর্ণনাকারীদের একজন “হিশাম ইব নে আব্দুর
রহমান’’ তার সম্পর্কে আমি পরিচিত বা অবগত নই,বাকী সব রাবী মজবুত ও সিকাহ বা বিশ্বস্ত। অতএব একজনের
জন্য হাদিস যঈফ হবে না; বরং “হাসান”।ইমাম বায্যার :আলমুসনাদ : ১৬/১৬১পৃ. : হাদিস :৯২৬৮ (২) ইবনে হাজার
হায়সামী : মাযমাউয যাওয়াইদ,হাদিস, ৮/৬৫পৃ.হাদিস,১২৯৫৮ (৩) সুয়ূতি, জামিউল আহাদিস, ৩/৪৮৪পৃ.হাদিস,২৬২৩, (৪) খতিবে বাগদাদ, তারীখে বাগদাদ,১৪/২৮৫পৃ. (৫) ইবনে যওজী, আল-ইল্ললুল মুতনাহিয়্যাহ,২/৫৬০পৃ.হাদিস,৯২১ (৬) ইমাম তবারী, শরহে উসূলুল আকায়েদ,৩/৪৯৫পৃ.হাদিস,৭৬৩, হাইসামী, কাশফুল আশতার, ২/৪৩৬পৃ.হাদিস,২০৪৬
*৮নং হাদিস ঃ
-‘‘হযরত আওফ বিন মালেক আশজারী () হতে বর্ণিত,রাসূলে খোদা () ইরশাদ করেন, আল্লাহ তাবারাকা ও তায়ালা ১৫ই
শাবানের রাত্রে (শবে বরাত) সকল ঈমানদার বান্দাদেরকে ক্ষমা করে দেন। তবে মুশরিক এবং হিংসুক ব্যতীত সবাইকে।
’░▒▓█►সনদ পর্যালোচনা ঃ
আল্লামা হাইসামী উক্ত হাদিসটি সংকলন করে বলেন- -‘‘উক্ত হাদিসটি ইমাম বায্যার তার মুসনাদ গ্রন্থে বর্ণনা
করেছেন, উক্ত সনদে “আব্দুর রহমান বিন যিয়াদ বিন আনআম” ইমাম আহমদ বিন সালেহ এর মত তিনি সিকাহ আবার
কিছু মুহাদ্দিসের কাছে তিনি দুর্বল রাবী এবং ইবনে লাহিয়া হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে নরম প্রকৃতির।’ একজন রাবী
দ্বঈফ হওয়াতে হাদিসটির সম্পূর্ণ সনদটি দুর্বল হবে না বরং “হাসান”।
ইমাম বায্যার : আল-মুসনাদ :৭/১৮৬পৃ.হাদিস,২৭৫৪ (২) ইবনে হাজার হায়সামী, মাযমাউয যাওয়াইদ, ৮/৬৫পৃ. (৩)
খতিব তিবরিযী : মিশকাতুল মাসাবীহ : হাদিস : ১৩০৬ :কিয়ামে রামাদ্বান (৪) ইবনে কাসীর, জামিউল মাসানীদ ওয়াল
সুনান, ৬/৬৯১পৃ. হাদিস,৮৫৩৯
🏡 * ৯নংহাদীস:-
-‘‘হযরত কাসীর ইবনে হাদ্বরামী () হতে বর্ণিত, রাসূল()ইরশাদ করেন, আল্লাহ তায়ালা শাবানের ১৫ই তারিখ
রাতে ঈমানদার বান্দাদেরকে ক্ষমা করে দেন, তবে হ্যা দুই ধরনের ব্যক্তি ছাড়া, তারা হল মুশরিক ও হিংসুক।’’
░▒▓█►সনদ পর্যালোচনা ঃ
উক্ত হাদীসের সনদ প্রসঙ্গে আহলে হাদীসের মুহাদ্দিস মোবারকপুরী এবং ইমাম মুনযির বলেন- ﻗﺎﻝ ﻣﻨﺬﺭﻯ : ﺭﻭﺍﻩ
ﺍﻟﺒﻴﻬﻘﻲ ﻭ ﻗﺎﻝ ﻫﺬﺍ ﻣﺮﺳﻞ ﺟﻴﺪ-‘‘ইমাম মুনযির বলেন, উক্ত হাদিসটি ইমাম বায়হাকী বর্ণনা করেছেন। আর বলেছেন, উক্ত হাদিসটি
মুরসাল, তবে সনদ শক্তিশালী।’’ এ হাদিসটির ইমাম আবদুর রাজ্জাকের সূত্রটি খুবই সংক্ষিপ্ত;অনেক শক্তিশালী।
ইবনে আবী শায়বাহ : আল মুসান্নাফ : ৬/১০৮পৃ.হাদিস :২৯৮৫৯ (২) ইমাম আব্দুর রাজ্জাক : আল মুসান্নাফ : ৪/৩১৭ :
হাদিস :৭৯২৩(৩) ইমাম বায়হাকী : শুয়াবুল ঈমান :৫/৩৫৯পৃ.হাদিস :৩৫৫০
🏡 *১০ নং হাদীস:-
-‘‘হযরত আতা ইবনে ইয়াসার () হতে বর্ণিত, রাসূল ()ইরশাদ করেন, শাবানের মধ্য রজনীতে আয়ূ নির্ধারণ করা হয়।
ফলে দেখা যায় কেউ সফরে বের হয়েছে অথচ তার নাম মৃতদের তালিকায় লিপিবদ্ধ করা হয়েছে, আবার কেউ বিয়ে
করছে অথচ তার নাম জীবিতের খাতা থেকে মৃত্যুর খাতায় লিখা হয়ে গেছে।’’
░▒▓█►সনদ পর্যালোচনা ঃ রাবী ‘‘ইবনে লাহিয়াহ’ সম্পর্কে মোটামুটি তিনি সিকাহ বা বিশ্বস্ত ছিলেন।
তাছাড়া মোবারকপুরী বলেন,
ﻗﺎﻝ ﻣﻨﺬﺭﻯ : ﺭﻭﺍﻩ ﺍﺣﻤﺪ ﺑﺎﺳﻨﺎﺩ ﻟﻴﻦ - ﺗﺤﻔﺔ ﺍﻻﺣﻮﺫﻯ : ৪৪১/৩
-‘‘ইমাম মুনযিরী () বলেন, ইমাম আহমদ উক্ত হাদিসটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেন, উক্ত হাদীসের সনদটি ইবনে
লাহিয়ার কারণে লীন বা নরম প্রকৃতির।’’ইমাম বায্যার : আল মুসনাদ :৩ পৃ- ১৫৮, হাদিস : ৭৯২৫(২)সুয়ূতি, জামিউল আহাদিস, ৪১/৬৯পৃ. হাদিস,৪৪৩১৪, (৩)ইবনে রাহবিয়্যাহ, মুসনাদ, ৩/৯৮১পৃ. হাদিস,১৭০২ (৪) তবারী,শরহে
উসূলুল আকায়েদ, ৩/৪৯৯পৃ. হাদিস,৭৬৯
🏡 *১১ নং হাদীস:-
আয়শা (রা:) বলেন, “রাসূলুল্লাহ আমার ঘরে প্রবেশ করলেন এবং তাঁর পোশাকটি খুলে রাখলেন। কিন্তু তত্ক্ষণাত্
আবার তা পরিধান করলেন। এতে আমার মনে কঠিন ক্রোধের উদ্রেক হয়। কারণ আমার মনে হলো যে,তিনি আমার কোন সতীনের নিকট গমন করেছেন। তখন আমি বেরিয়ে তাঁকে অনুসরণ করলাম এবং দেখতে পেলাম যে,তিনি বাক্বী গোরস্থানে মুমিন নরনারী ও শহীদদের পাপ মার্জনার জন্য দোয়া করছেন। আমি (মনে মনে) বললাম,আমার পিতা মাতা আপনার জন্য কুরবানী হউন, আমি আমার জাগতিক প্রয়োজন নিয়ে ব্যস্ত আর আপনি আপনার রবের কাছে ব্যস্ত। অত:পর আমি ফিরে গিয়ে আমার কক্ষে প্রবেশ করলাম, তখন আমি দীর্ঘশ্বাস নিয়ে হাঁপাচ্ছিলাম। এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ (স.) আমার নিকট আগমন করে বললেন, আয়শা, তুমি এভাবে হাঁপাচ্ছ কেন? আয়শা বললেন, আমার পিতা মাতা আপনার জন্য কুরবানী হউন, আপনি আমার কাছে আসলেন এবং কাপড় খুলতে শুরু করে তা আবার পরিধান করলেন। ব্যাপারটি আমাকে খুব আহত করল।
কারণ আমি ধারণা করেছিলাম যে, আপনি আমার কোন সতীনের সংস্পর্শে গিয়েছেন। পরে আপনাকে বাক্বী’তে দোয়া করতে দেখলাম। তিনি বললেন, হে আয়েশা, তুমি কি আশংকা করেছিলে যে, আল্লাহ ও তদীয় রাসুল তোমার উপর অবিচার করবেন? বরং আমার কাছে জিবরাঈল (আ.) আসলেন এবং বললেন, এ রাত্রটি মধ্য শাবানের রাত।আল্লাহ তা’য়ালা এ রাতে ‘কালব’ সম্পদায়ের মেষপালের পশমের চাইতে অধিক সংখ্যককে ক্ষমা করেন। তবে তিনি শিরকে লিপ্ত, বিদ্বেষী, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী, কাপড় ঝুলিয়ে (টাখনু আবৃত করে) পরিধানকারী,পিতা মাতার অবাধ্য সন্তান ও মদ্যপায়ীদের প্রতি দৃষ্টি দেন না।অত:পর তিনি কাপড় খুললেন এবং আমাকে বললেন,হে আয়শা, আমাকে কি এ রাতে ইবাদত করার অনুমতি
দিবে?আমি বললাম, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উত্সর্গিত হোন! অবশ্যই। অত:পর তিনি সালাত আদায় করতে
লাগলেন এবং এমন দীর্ঘ সিজদা করলেন আমার মনে হলো যে, তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। অত:পর আমি (অন্ধকার ঘরে) তাকে খুঁজলাম এবং তাঁর পদদ্বয়ের তালুতে হাত রাখলাম। তখন তিনি নড়াচড়া করলেন। ফলে দুশ্চিন্তা-মুক্ত হলাম।
আমি শুনলাম, তিনি সিজদারত অবস্থায় বলছেন: ‘আমি আপনার কাছে শাস্তির পরিবর্তে ক্ষমা চাই, অসন্তুষ্টির
পরিবর্তে সন্তুষ্টি চাই। আপনার কাছে আপনার (আজাব ও গজব) থেকে আশ্রয় চাই। আপনি সুমহান। আপনার প্রশংসা করে
আমি শেষকরতে পারি না। আপনি তেমনই যেমন আপনি আপনার প্রসংশা করেছেন। আয়শা (রা.) বলেন, সকালে আমি
এ দোয়াটি তাঁর কাছে উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন, হে আয়শা, তুমি কি এগুলো শিখেছ? আমি বললাম, হ্যাঁ।তখন
তিনি বললেন, হে আয়শা তুমি এগুলো ভাল করে শিখ এবং অন্যকে শিক্ষা দাও। জিবরাঈল (আ.) আমাকে এগুলো
শিক্ষা দিয়েছেন এবং সিজদার ভিতরে বারবার বলতে বলেছেন।(বায়হাকীর শুয়াবুল ইমান ২/৩৮৩)।
░▒▓█► হাদীসটির মান :
ইমাম বায়হাকী নিজেই উক্ত হাদীস উল্লেখ করে বলেন-
ﻗُﻠْﺖُ : ﻫَﺬَﺍ ﻣُﺮْﺳَﻞٌ ﺟَﻴِّﺪٌ ﻭَﻳُﺤْﺘَﻤَﻞُ ﺃَﻥْ ﻳَﻜُﻮﻥَ ﺍﻟْﻌَﻠَﺎﺀ ﺑْﻦُ ﺍﻟْﺤَﺎﺭِﺙِ ﺃَﺧَﺬَﻩُ ﻣِﻦْ ﻣَﻜْﺤُﻮﻝٍ ﻭَﺍﻟﻠﻪُ ﺃَﻋْﻠَﻢُ ،
অর্থাৎ : উক্ত হাদীসটি (মুরসাল) সনদ অনেক উত্তম।অতএব হাদীসটি প্রমাণযোগ্য।
মৃত্যুর পুর পুনরুত্থান ও পুনঃজন্ম
✫✫✫মৃত্যুর পুর পুনরুত্থান ও পুনঃজন্ম ✫✫✫
ইসলামে পুনঃজন্ম নেই। মৃত্যুর পর পুনরুত্থান ইহা বিশ্বাস করা ইমানের অংগ। মৃত্যু এবং পুনরুত্থান পরস্পর সংযুক্ত। যেমন ধরুন ভাল ও মন্দ। যেমন- মৃত্যু ঘটলেই উত্থান ঘটবে এবং উত্থান হতে হলে মৃত্যুর প্রয়োজন। মৃত্যু ও উত্থান নিয়মিত কালক্রম। “তেমারা মৃত ছিলে, পরে জীবিত করা হয়েছে, তারপর মৃত্যু দান করা হবে তারপর জীবিত করা হবে এবং পরিশেষে তাহার (আল্লাহর) দিকে ফিরে যাবে। --- সূরা বাকারা ২৮ আয়াত। এ আয়াতে বুঝা যাচ্ছে মৃত্যু ও জীবন পালাক্রম কাল এবং প্রতিটি জীবিতকে এই ক্রম অতিক্রম করতে হবে। কাজেই উত্থান মৃত্যুর সঙ্গে সংযুক্ত। যা খুবই রহস্যময়। মৃত্যু ও জীবনচক্রের শেষ পরিনতি আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়া।
--
সাধারণত মানুষের ধারণা- মানুষের রুহ দেহ থেকে চলে গেলে মৃত্যু হয়। কিন্তু কুরআন থেকে পাই “....রুহ হলো আল্লাহর আদেশ”। যেহেতু আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান। তাহলে আল্লাহ যদি সর্বত্র থাকেন, তাহলে তার আদেশ রুহ যাবে কোথায়? আল্লাহ সর্বত্র অবস্থান করলে মৃত দেহের মাঝেও রুহ আছে। দেহ হতে কিছু চলে যায় না আবার দেহের মধ্যে কিছু বাহির থেকে কিছু আসেও না। কাজেই আল্লাহর অবস্থানসহ আল্লাহকে সঠিক উপলব্ধি না করলে এর মূল রহস্যে যাওয়া যায় না।
--
পুনরুত্থান কিভাবে হয় তা কুরআন মাজিদে বলা আছে- “আল্লাহ বায়ু প্রেরণ করে তা দিয়ে মেঘমালা সঞ্চলিত করেন, তারপর তিনি তা দিয়ে মাটিকে মৃত্যুর পর আবার জীবিত করেন। পুনরুত্থান এভাবেই হয়”। (৩৫:৯)
--
তরিকতী মুসলিম ভাইদের মধ্যেও পুনঃজন্ম বিশ্বাসী আছেন অন্যান্য ধর্মের মত। কিন্তু মৃত্যুর পুর পুনরুত্থান ও পুনঃজন্ম এক কথা নয়। পুনঃজন্ম বলতে বুঝায় একটি আত্মা কর্মফল অনুযায়ী বারবার দেহ বদল করা। এক দেহ ত্যাগ করে আরেক দেহ ধারণ করে। এভাবে চলতে চলতে স্বতসাধু হলে তাকে আর পুর্ব কর্মের জন্য ফল ভোগ করতে হয় না। মানে সোজ কথা খারাপ কর্ম করলে আবার নিকৃষ্ট প্রাণী (যেমন কুত্তা বিরাল) হয়ে জন্ম গ্রহণ করতে হবে বা বিভিন্ন স্তরে জন্ম নিতে হবে এবং মানব জনম উৎকৃষ্টস্তর। -এহলো সংক্ষেপে পুনঃজন্মের ধারণা। অনেকে আবার মনে করে বা বলে বেড়ায় পুনঃজন্ম ও পুনরুত্থান একই; শব্দের অর্থের পার্থক্য! আসলে কি তাই?
--
এবার আসুন একটু সমালোচনা করি। ইসলাম পুনঃজন্ম স্বীকার করে না বরং পুনরুত্থান স্বীকার করে। পুনরুত্থান কিভাবে হয় তা উপরে কুরআন অনুযায়ী বর্ণনা করেছি। আত্মা হচ্ছে আল্লাহ আদেশ। আল্লাহর আদেশ এক দেহ হতে আরেক দেহ ভ্রমন করে একেবারেই অযৌক্তিক ও অবাস্তব। আত্মাকে কেন্দ্র করে দেহ নয় বরং দেহকে কেন্দ্র করে আত্মা। তাই আত্মার দেহান্তর অসম্ভব। দেখুন কোন কুকুর কি মনে করতে পারে যে সে আগের জন্মে মানুষ ছিল বা অন্য কিছু? অথবা আপনি কি মনে করতে পারবেন আপনি আগের জন্মে কি ছিলেন? পৃথিবীতে কোন কাজ ২বার ঘটে না। আজ আপনি যে পথ দিয়ে আজ এসেছেন সে পথ দিয়ে হুবহু যেতে পারবেন না। এমনকি আপনার দুইটি স্বাক্ষরও এক হবে না। যা হয় পৃথিবীতে একবারই হয়। জন্মও একবারই। কোন প্রাণী, মানুষ, গাছ, পশু পাখীর কারও পুনঃজন্ম সম্ভব নয়। কাজেই মহা পবিত্র কুরআনে পুনঃজন্মের কথা নেই, আছে পুনরুত্থান।
“তিনি মৃত হতে জীবন্তের আবির্ভাব ঘটান এবং ভূমির মৃত্যুর পুর ওকে পুনর্জীবিত করেন। এভাবেই তোমরা উত্থিত হবে” (৩০:১৯)।
“মৃত্যুর পর তোমরা পুনরুত্থিত হবে” (১১:০৭)।
পরিষেশে বলা যায়, আত্মার জন্ম হয় না; জন্ম হয় দেহের। এছাড়া জন্ম ও সৃষ্টিও এক নয়। আদম সৃষ্টি আদম হতে মানুষের জন্ম। সুতরাং আত্মার কোন পুনঃজন্ম নেই।
ইসলামে পুনঃজন্ম নেই। মৃত্যুর পর পুনরুত্থান ইহা বিশ্বাস করা ইমানের অংগ। মৃত্যু এবং পুনরুত্থান পরস্পর সংযুক্ত। যেমন ধরুন ভাল ও মন্দ। যেমন- মৃত্যু ঘটলেই উত্থান ঘটবে এবং উত্থান হতে হলে মৃত্যুর প্রয়োজন। মৃত্যু ও উত্থান নিয়মিত কালক্রম। “তেমারা মৃত ছিলে, পরে জীবিত করা হয়েছে, তারপর মৃত্যু দান করা হবে তারপর জীবিত করা হবে এবং পরিশেষে তাহার (আল্লাহর) দিকে ফিরে যাবে। --- সূরা বাকারা ২৮ আয়াত। এ আয়াতে বুঝা যাচ্ছে মৃত্যু ও জীবন পালাক্রম কাল এবং প্রতিটি জীবিতকে এই ক্রম অতিক্রম করতে হবে। কাজেই উত্থান মৃত্যুর সঙ্গে সংযুক্ত। যা খুবই রহস্যময়। মৃত্যু ও জীবনচক্রের শেষ পরিনতি আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়া।
--
সাধারণত মানুষের ধারণা- মানুষের রুহ দেহ থেকে চলে গেলে মৃত্যু হয়। কিন্তু কুরআন থেকে পাই “....রুহ হলো আল্লাহর আদেশ”। যেহেতু আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান। তাহলে আল্লাহ যদি সর্বত্র থাকেন, তাহলে তার আদেশ রুহ যাবে কোথায়? আল্লাহ সর্বত্র অবস্থান করলে মৃত দেহের মাঝেও রুহ আছে। দেহ হতে কিছু চলে যায় না আবার দেহের মধ্যে কিছু বাহির থেকে কিছু আসেও না। কাজেই আল্লাহর অবস্থানসহ আল্লাহকে সঠিক উপলব্ধি না করলে এর মূল রহস্যে যাওয়া যায় না।
--
পুনরুত্থান কিভাবে হয় তা কুরআন মাজিদে বলা আছে- “আল্লাহ বায়ু প্রেরণ করে তা দিয়ে মেঘমালা সঞ্চলিত করেন, তারপর তিনি তা দিয়ে মাটিকে মৃত্যুর পর আবার জীবিত করেন। পুনরুত্থান এভাবেই হয়”। (৩৫:৯)
--
তরিকতী মুসলিম ভাইদের মধ্যেও পুনঃজন্ম বিশ্বাসী আছেন অন্যান্য ধর্মের মত। কিন্তু মৃত্যুর পুর পুনরুত্থান ও পুনঃজন্ম এক কথা নয়। পুনঃজন্ম বলতে বুঝায় একটি আত্মা কর্মফল অনুযায়ী বারবার দেহ বদল করা। এক দেহ ত্যাগ করে আরেক দেহ ধারণ করে। এভাবে চলতে চলতে স্বতসাধু হলে তাকে আর পুর্ব কর্মের জন্য ফল ভোগ করতে হয় না। মানে সোজ কথা খারাপ কর্ম করলে আবার নিকৃষ্ট প্রাণী (যেমন কুত্তা বিরাল) হয়ে জন্ম গ্রহণ করতে হবে বা বিভিন্ন স্তরে জন্ম নিতে হবে এবং মানব জনম উৎকৃষ্টস্তর। -এহলো সংক্ষেপে পুনঃজন্মের ধারণা। অনেকে আবার মনে করে বা বলে বেড়ায় পুনঃজন্ম ও পুনরুত্থান একই; শব্দের অর্থের পার্থক্য! আসলে কি তাই?
--
এবার আসুন একটু সমালোচনা করি। ইসলাম পুনঃজন্ম স্বীকার করে না বরং পুনরুত্থান স্বীকার করে। পুনরুত্থান কিভাবে হয় তা উপরে কুরআন অনুযায়ী বর্ণনা করেছি। আত্মা হচ্ছে আল্লাহ আদেশ। আল্লাহর আদেশ এক দেহ হতে আরেক দেহ ভ্রমন করে একেবারেই অযৌক্তিক ও অবাস্তব। আত্মাকে কেন্দ্র করে দেহ নয় বরং দেহকে কেন্দ্র করে আত্মা। তাই আত্মার দেহান্তর অসম্ভব। দেখুন কোন কুকুর কি মনে করতে পারে যে সে আগের জন্মে মানুষ ছিল বা অন্য কিছু? অথবা আপনি কি মনে করতে পারবেন আপনি আগের জন্মে কি ছিলেন? পৃথিবীতে কোন কাজ ২বার ঘটে না। আজ আপনি যে পথ দিয়ে আজ এসেছেন সে পথ দিয়ে হুবহু যেতে পারবেন না। এমনকি আপনার দুইটি স্বাক্ষরও এক হবে না। যা হয় পৃথিবীতে একবারই হয়। জন্মও একবারই। কোন প্রাণী, মানুষ, গাছ, পশু পাখীর কারও পুনঃজন্ম সম্ভব নয়। কাজেই মহা পবিত্র কুরআনে পুনঃজন্মের কথা নেই, আছে পুনরুত্থান।
“তিনি মৃত হতে জীবন্তের আবির্ভাব ঘটান এবং ভূমির মৃত্যুর পুর ওকে পুনর্জীবিত করেন। এভাবেই তোমরা উত্থিত হবে” (৩০:১৯)।
“মৃত্যুর পর তোমরা পুনরুত্থিত হবে” (১১:০৭)।
পরিষেশে বলা যায়, আত্মার জন্ম হয় না; জন্ম হয় দেহের। এছাড়া জন্ম ও সৃষ্টিও এক নয়। আদম সৃষ্টি আদম হতে মানুষের জন্ম। সুতরাং আত্মার কোন পুনঃজন্ম নেই।
Subscribe to:
Posts (Atom)