Monday, November 30, 2015

হযরত মখদুম শাহদ্দৌলা ইয়ামেনী (রহ)এর মাজার


হযরত মখদুম শাহদ্দৌলা ইয়ামেনী (রহ)এর মাজার ও মসজিদঃ

 মাজার ও মসজিদের নির্মানকাল ও নির্মাতাঃ চতুর্দশ শতাব্দীর কোন এক সময় এই প্রাচীনতম মসজিদ নির্মান করেন ধর্ম প্রচারার্থে ইয়ামেনের শাসনকর্তা মুয়াজ ইবলে জিবল এর বংশের হযরত মখদুম শাহদ্দৌলা ইয়ামেনী (রহ)বাংলায় আগমন করে এই মসজিদ নির্মান করেন

 স্থ্যাপত্য রীতিঃ ১৫৭৬ খিঃ পর্যন্ত নির্মিত ইমারত সমূহকে সুলতানী স্থ্যাপত্য রীতি ও ৫৭৬খিঃ এর পর থেকে ১৭৫৭খিঃ এর মধ্যে নির্মিত ইমারত সমূহকে মোঘল রীতির আওতাভুক্ত করা হয় এই মসজিদটি সুলতানী আমলের উতক্রিষ্ট ও সবচেয়ে অধিক পরিচয়বাহী একটি ইমারত নামকরন ও সংখিপ্ত ইতিহাসঃ হযরত মখদুম শাহদ্দৌলা ইয়ামেনী (রহ) এর নাম অনুসারে এই এলাকার নামকরন করা হয় শাহজাদপুর ১১৯২-৯৬ সালের মধ্যে কোন এক সময় হযরত মখদুম শাহদ্দৌলা ইয়ামেনী (রহ) ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন এবং যাত্রা পথে বোখারা শরীফে আগমন করেন সেখানে শাহ জালাল উদ্দিন বোখারী (রহঃ)এর সাথে কিছুক্ষন সময় অতিবাহিত করে বাংলার পথে যাত্রা শুরু করেন ও এই অঞ্চলে আগমন করেন ,শাহ জালাল উদ্দিন বোখারী(রহঃ)তাকে এক জোড়া কবুতর উপহার দেন যাহা জালালী কবুতর নামে পরিচিত আজও বাবার মাজারে এই কবুতর দেখতে পাওয়া যায় হযরত মখদুম শাহদ্দৌলা ইয়ামেনী(রহঃ) ইসলাম প্রচার শুরু করলে ততকালীন সুব-বিহারের অমুসলিম অধিপতি রাজা বিক্রম কেশরীবাবা হযরত মখদুম শাহদ্দৌলা ইয়ামেনী(রহ)এর আগমনের খবর শুনে বাবা মখদুম শাহদ্দৌলা ইয়ামেনী(রহঃ)কে ইসলাম প্রচারে বাধাপ্রদানের উদ্দেশ্যে যুদ্ধের জন্য তার সেনাবাহিনী প্রেরন করে কিন্তু তার সৈন্যবাহিনী পরাজিত হয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হয় , পর পর তিনবার রাজার সেনাবাহিনী পরাজিত হয়ে ফিরে যায় পরবর্তীতে পূর্ববর্তী যুদ্ধ্যে পরাজিত রাজার একজন সৈনিক গুপ্তচর হিসেবে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেন ও শেষ যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে আসরের নামাজ আদায়ের সময় সেজদারত অবস্থায় হযরত মখদুম শাহদ্দৌলা ইয়ামেনী (রহ)এর ছিরচ্ছেদ করা হয় ও মস্তক মোবারক সুব-বিহারের রাজধানী মঙ্গলকোটে রাজার নিকটে উপস্থিত করা হয় মস্তক মোবারক রাজার সন্মুখে হাজির করার সাথে সাথে অলৌকিকভাবে হযরত মখদুম শাহদ্দৌলা ইয়ামেনী (রহ) এর উষ্ঠাধর হতে সুবহানা রাব্বল আলাউচ্চারিত হতে থাকে , এতে রাজা ভয় পেয়ে যায় ও রাজার প্রধান সেনাপতি ইসলাম ধর্ম কবুল করেন এবং রাজা স্থানীয় মুসলমানদের ডেকে বাবার মস্তক মোবারক সমাহিত করার নির্দেশ দেয় যে স্থানে মস্তক মোবারক সমাহিত করা হয় সেই স্থান আজও ছের মোকামনামে পরিচিত অন্যদিকে দেহ মোবারক কফিনে করে মসজিদের দশরশি মোকামে সমাধীস্থ করা হয় পরবর্তীতে কফিনটি সরিয়ে বর্তমান স্থানে সমাহিত করা হয় ।।

(সংখেপিত)

হযরত জিন্দা শাহ মাদার (র)


হযরত জিন্দা শাহ মাদার ()
আওলিয়ার পবিত্র মাজার শরিফইহা বর্তমানে ভারতের কান পুরে অবস্থিত হযরত জিন্দা শাহ মাদারের সম্পূর্ণ
নাম হল হযরত সৈয়দ বাদিউদ্দিন জিন্দা শাহ মাদার উনার পিতা মাতা দুই জনই মহানবী () এর বংশ ধর
ছিলেন হযরত শাহ্ মাদার আওলিয়ার তাওরাত , জবুর, ইঞ্জিল, কুরআন এই আসমানি কিতাব মুখস্ত ছিল আখেরি জামার গাউসুল আজম হযরত ইমাম মেহেদি () এর রূহ মোবারক রাসুলে পাকের হুকুমে তাকে এই আসমানি কিতাব শিক্ষা দেন যা অন্য কোন আওলিয়ার মুখস্ত ছিল না মাত্র ১৪ বছর বয়সে তিনি ৩০ পারা কুরআনের হাফেজ হয়ে যান হযরত শাহ্ মাদার আওলিয়ার কখনও ক্ষুধা , তৃষ্ণা লাগত না রাসুলে পাকের হাতে জান্নাতি ফল খাওয়ার পর থেকেই তার আর কখনও ক্ষুধা বা তৃষ্ণা লাগে নি জন্য উনি কোন খাবারও খেতেন না শাহ্ মাদার আওলিয়ার জামা মোবারক কখনও ময়লা বা নষ্ট হত না, উনি যেমন নতুন জামা পড়তেন তা বছরের পর বছর নতুনই থাকত , তার কোন পরিবর্তন হত না তার এই মর্যাদা ছিল রাসুল পাকের দুয়ার ফজিলত , যা তিনি লাভ করেছিলেন
শাহ্ মাদার আওলিয়াকে জিন্দা পীর বলা হয় কারন তিনি মৃত্যুর পরও মানুষের সাথে জীবিত মানুষের মত
মেলা মেশা করতেন এবং ইসলামের শিক্ষা দিতেন কথিত আছে শাহ মাদার আওলিয়ার চোখে আল্লাহর এত নূর চমকাত যে কোন লোকই তার চেহরা মোবারকে দৃষ্টি দিয়ে স্থির থাকতে পারত না, সাথে সাথেই মাথা নত করতে বাধ্য
হত হযরত জিন্দা নবী খাজা খিজিরের নিকট হইতে তিনি ইলমে লা দুন্নি লাভ করেছিলেনযার ফলে তিনি ছিলেন
বাতেনি জ্ঞানের মহাসাগর শাহ্ মাদার এর সাথে হযরত বড় পীর পিরানের পীর গাউসুল আজম আব্দুল কাদির জিলানি () এর ভালো বন্ধুত্ব ছিল বড় পীরের অসম্ভব জালালির কারনে যখন অজু ছাড়া বড় পীরের নাম
নেয়ার অপরাধের দরুন মানুষের মস্তক আপনা আপনি দুইভাগ হয়ে যেত তখন বড় পীরের এই জালালি তবিয়ত কমানোর জন্য সর্ব প্রথম শাহ মাদার আওলিয়া বড় পীরকে সুপারিশ করেন শাহ মাদারের সুপারিশে বড় পীর তার এই
জালালি ভাব গোপন করে ঠাণ্ডা সিমালি ভাব প্রকাশ করতে শুরু করেন তারপরেও বড় পীরের শরীরে সারা
জীবন একটা মশাও বসার সাহস পায় নাই
শাহ মাদার আওলিয়ার মাজার শরিফও খুব জালালি তবীয়ত প্রাপ্তবর্তমান উক্ত মাজার শরিফে আল্লাহর বিশেষ
নেকবান মানুষ ছাড়া কেউই প্রবেশ করার অনুমতি নেইযদি কেউ জোর করে প্রবেশ করে তাহলে সাথে সাথে তার
গায়ে আগুনের জালা পোড়া শুরু হয়ে যায় জন্য মানুষ বাইরে থেকে জিয়ারত করে নিজের জীবন ধন্য করে থাকে
আজও লাখ লাখ মুসলমান এই মহান আওলিয়ার মাজার শরিফ জিয়ারত করে আল্লাহর পাকের কাছে উনার উসিলায়
শিফা লাভ করে থাকেন কিন্তু একদল ভণ্ড ওয়াহাবি ধর্মের অনুসারিরা অলি-আওলিয়াদের নিন্দা করে এবং
গীবত গাঁয় আল্লাহপাক আমাদের মুসলমানদেরকে সেই সব ফিতনা বাজ ছদ্মবেশী ওয়াহাবি মুসলমানদের থেকে
ইমান হেফাজত করুক আমিন